FreeWebSubmission.com

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Bangla koster kobita

তোমায় ছোব

তুমি না হয় গোলাপ নিও
তোমার খোপায় ভীষণ যায়
আমি না হয় ধুতুরা চিবাবো
হারিয়ে ফেলার দায়।
ওষ্ঠে তুমি বিষই রেখো
নষ্ট হবার ভয়ে
আমি না হয় বিষেই মরি
ভ্রমরা হবার দায়ে।
যত্ন করে সেজো তুমি
নূপুর দুটি পরে
তাজা বুকের রক্ত দেবো
আলতা বানিয়ো পায়ে।

কপাল জুড়ে ছোট্ট টিপ
মধ্য রাতের চন্দ্র
আমাবস্যা আমায় ঘিরুক
কান্না করুক শত।
কাঁচের চুড়ি হাতটি জুড়ে
ছন্দে ওঠো মেতে
বুকে আমার ব্যাথার বীনা
বাজুক যতয় করুণ সুরে
তুমি হাসি রেখো ঠোঁটে।

কাজল কালো চোখ
যেনও পদ্দ দীঘির পাড়
দীঘির জলেয় ডুববো না হয়
শীতটা দেখাক যতয় ভয়।
হলদে রাঙ্গা শাড়ী পড়ো
শষ্য ক্ষেতের মাঠ
মাতাল হাওয়ায় তোমায় ছোব
এই জীবনের স্বাদ।


প্রেম বিচ্ছেদ কবিতা


বিচ্ছেদের পর

বিচ্ছেদের পর,
পুরনো প্রেমের তিক্ততা
গলায় আটকে থাকে
শত চেষ্টাতেও উগলে ফেলা যায় না
প্রেয়সির  ঘর, সংসার সুখ-
উচ্ছ্বাস সব কষটা লাগে।
যে শরীরের গন্ধেছিল মাদকতা
সমস্ত শিরা- উপশিরায় ধমনিতে বইতো
বিচ্ছেদের পর,
সেই গন্ধেই বিরক্তি লাগে
বিচ্ছেদের পর,
ভালোবাসার ছিন্ন কাপড়টাকে
বড্ড আপন লাগে।
যে হাসি আমায় ভুবন ভুলিয়ে দিত
যে চোখের নজরে বুকের
ভেতরটা তোলপাড় করে উঠতো
বিচ্ছেদের পর
সেসব আমায় দারুন এক ক্ষত দিল।

ক্ষততে পুজ জমবে
পচিয়ে দেবে আমার শুদ্ধ প্রেমকে

বিচ্ছেদের পর,
আমার নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।



ভালোবাসার রোমান্টিক কবিতা


bangla premer kobita


                                          রাতের জ্বালা

কেমন করে ঘুমাও তুমি!
ঘুম কি আসে চোখ জুড়িয়ে!
স্বপ্ন ভরা নিবির রাতে!
বুকের মাঝে কয় না কথা!
অচিন পাখি,
হাজার রকম প্রশ্ন তুলে?

আমি কেমন পুরতে থাকি
তারায় তারায় জ্বলতে থাকি
হারিয়ে এই আঁধারে
তারেয় কেবল খুঁজতে থাকি
পাইনা খুঁজে সিথান পাশে
বুকের ভেতর শূণ্যতা জাগে
দেয়নি ধরা যে, সেই সকালে
কেনো তারে মনে পড়ে
এই মাঝ রাত্রিরে।

তোমারও কি এমন হয়!
দু'চোখ ভরে দেখবো তোমায়
চোখের পাতা এক করিনা
রাতের কাছে আর্জি রাখি
আমার যেনো ঘুম আসে না,
তোমার সনে কইবো কথা
অপেক্ষাতে দিন কাটেনা
এসেও তুমি দাওনা ধরা
এই জ্বালা আর সয় না।

এমন করে পুরাও কেনো
বুকের ভেতর আছর কেটে
অমন করে লুকাও কেনো
আমার কেমন কষ্ট হয়
তোমার নামে আমার সকল নষ্ট হয়।
রাতগুলো সব চুপসে যায়
কাব্যগুলো হারিয়ে যায়
তোমায় ভেবে আমার সকল
ছন্দ গুলো ব্যর্থ হয়।

তোমারও কি এমন হয়!
বেলাগুলো অবেলাতে হারিয়ে যায়!
আমার নামে আরাম ঘুম হারাম হয়!
তোমারও কি দিনগুলো সব
পানসে হয়!
আমার নামে বুকের ভেতর
অচিন এক অসুখ হয়!






short bengali drama script

বৈশাখীর আত্তচিতকার | Boishakher Bangla Kobita

বৈশাখীর আত্তচিতকার

-------------------------------------------------------
বান্দরবন থেকে সুন্দরবন
আমি দেখেছি কিছু মুখোসধারি পশু
লেজ কাটা বাদর
হরিণির মত সুনয়না সাবালিকা।
খবরের কাগজে ছাপা হয় করুণ চিত্‍কার
জানোয়ার গুলো মুখোশের আড়ালে থেকে যায়।
নদিমাতৃক এই বাংলাদেশে একটা সাগর আছে
হয়তো কিশোরির আত্তচিত্‍কারে সাগরটাও ফুঁসে উঠবে
কিন্তু আমরা নিরব থেকে যাই
ঐই জানোয়ারদের বগলের নিচের
বালগুলোও অক্ষত থেকে যায়।
বিপুল উত্‍সাহ উদ্দিপনায় আসছে পহেলা বৈশাখ
আরতো মাত্র কটা দিন
সংবাদ বুলেটিনে আসছে ব্যাপক বিনোদন
ইলিশের দামের নিচে চাপা পড়ে যাবে আবার
কোন কিশোরির করুণ চিত্‍কার
লেজকাটা বাদরগুলো মেতে উঠবে দুষ্টমিতে
বেরিয়ে আসবে মানুষের ভেতর থাকা হায়েনা
কোন অক্ষ্যাত কিশোরি করবে দখল
খবরের কাগজের প্রথম পাতা ।
ধর্ষক এই সমাজ হাততালি দেবে
নাপুংষকের মত clap everybody clap,
মহাসমারহে আসছে
১৬ কোটি মানুষের প্রাণের উত্‍সব
আসছে বাঙ্গালির প্রাণের উত্‍সব।
আবার কি কোন কিশোরির সতিচ্ছেদের
মধ্যদিয়ে হবে বর্ষ বরণ!
কান্নার বিলাপ ঢাকা পড়বে
দূর মাইকে বেজে ওঠা রবি ঠাকুরের গানে
"এসো হে বৈশাখ এসো এসো"


কবিতা আবৃত্তি অডিও

nogorkatha - নগর কথা- bangla kobita website


ডাইরির পাতা থেকে | dairir pata theke



ডাইরীর পাতা

আমার মনের ডাইরির পাতা                                           

আমি বরাবরই বোকা ও ভীতু ছিলাম, আজও আছি গতকালও ছিলাম। কেমন ভীতু? গতকালের কথাই ধরা যাক। একটা মেয়ে, কখনও আমি তার সামনে কখনও সে আমার, কখনো বা দুজনে পাশাপাশি হাটছি। হাতটা ধরতে চাইলে হয়তো দিত, হয়তোবা গালে এঁকে দিত পাঁচ আঙ্গুলের দাগ! মেয়েটা থমকে দাড়িয়েছিল হয়তো অকপটে কিছু তীক্ষ্ণ কথা বলতো অপমান করার চেষ্টা করত, হয়তো বা করত না। আমি তার চোখের গভীরতায় হাবুডুবু খাচ্ছি দেখে আবেগে আমার হাতটা ধরত। কোন এক পরন্ত বিকালে আমার বুকে মাথা এলিয়ে দিয়ে বলতো এভাবে তোমার বুক পাজরে আমাকে সারাজীবন বেঁধে রাখবে? আমি বলতাম, আমার বুকের জমিন ভালবাসার দামে তোমার কাছে বিক্রি করে দিছি, তুমি চাইলে অট্রালিকা বানাতে পারো চাইলে কুড়েঘর, চাইলে ধু ধু মরুভূমি, অতল সাগর অথবা সবুজ অরণ্য। বালিকা আমার বুকে মাথা রেখেয় বলতো, তোমার বুকে শুধু মাথা গোজার ঠাঁই দিও। কিন্তু আমি দাঁড়াইনি তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই চলে গেছি। আমার বুকে সে সাহস টুকু ছিল না।

অথবা আজকের কথাই ধরা যাক, মেয়েটা হুরপরি টাইপ কিছু না তবে আমার কল্পনায় যেমন মেয়ে আসে ঠিক তেমন। কলঙ্ক কি সুন্দরর্য বৃদ্ধি করে! চাঁদ সুন্দর চাঁদের কলঙ্ক আছে, তাজমহল সুন্দর তাজমহলের পেছেনেও কুৎসিত কাহীনি আছে। মেয়েটার ঠোটের নিচে ছোট্ট তিলটা কি কলঙ্ক! নাকি প্রকৃতি মেয়েটার মুখে ছোট্ট টিপ এঁকেছে যেন নজর না লাগে। মেয়েটা পলকহীনভাবে তাকিয়ে ছিল। তার চোখে চোখ পরতেই আমিই বারবার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলাম। আমাকে অপ্রস্তুত হতে দেখেই হয়তো মেয়েটা চলে গেল। যাবার আগে অবশ্য হাত ইশারায় বিদায় জানাল। কি এমন হত যদি মেয়টার কাছে গিয়ে নাম জানতে চাইতাম, চাইলে হয়তো ফোন নাম্বারও দিত। কিন্তু আমি চাইতে পারিনি, কেননা সে সাহস আমার আজও হয়নি।



 প্রতিশোধের গল্প


কিংবা সেই দিনের কথাই ধরা যাক, মেয়েটা রীতিমত হুরপরি। আমার বাপের জন্মেতো দুরের কথা, বাপ দাদা চৌদ্দ গুষ্টির জন্মেও এমন সুন্দর মেয়ে দেখিনি। অতিরিক্ত উত্তেজনায় বোধহয় বেশ জোরেই বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম, দেখ দেখ হুরপরি। মেয়েটার সাথে ভাল মানুষ গোছের একটা ছেলে হয়তো ভাই! কেননা প্রেমিক টাইপ মনে হচ্ছিল না। ছেলেটা আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিল, কোন সমস্যা? আমি মাথা নুইয়ে মিনমিনে গলায় বলেছিলাম না কোন সমস্যা নেই। আমি সেইদিনও বলতে পারিনি 'আমার জানামতে হুরপরি থাকে বেহেস্তে উনি বোধহয় ভুল করে পৃথিবীতে এসেছেন, আমি আগে কখনও হুরপরি দেখিনি সমস্যা বলতে এইটুকুই'। কি এমন হত বললে, হয়তো ভাল মানুষ গোছের ছেলেটা রেগে অভদ্র হত, আমার কলার চেপে ধরতে চাইতো, দু-চারটে চড় থাপ্পড় মারতো। মেয়েটার চোখে ভয়, হয়তো আমার জন্য একটু মায়া ফুটে উঠতো । এমন মেয়ের জন্য হাসতে হাসতে জীবন দেওয়া যায়, কিন্তু আমার র্হাটটাই একটু দূর্বল তাই সেই দিন চড় খেতে পারিনি।

তপ্ত রোদে পুড়ে পুড়ে আমি যখন নিঃস্বেশ একটু পানির আশায় চেয়ে থাকি, ঈষাণ কোণ থেকে গুড়ুম গুড়ুম শব্দে ভেশে আসে কালো মেঘ, আমি ভয় পাই ঘোরের কোণে লুকিয়ে পরি এই বুঝি শুরু হয় কাল বৈশাখী ঝড়। আমার আর বৃষ্টিতে ভেজা হয় না ভালবাসায় সিক্ত হওয়া হয় না। কেনো এময় হয় ? ঐযে বললাম আমি একটু ভিতু আমার র্হাটটাই একটু দূর্বল।


Film Script পড়তে এখানে ক্লিক করুন

nogorkatha - নগর কথা - bangla golpo - গল্প 

stand up comedy bangladesh

কমন চেহারা বিড়ম্বনা

আমার চেহারাটা খুব কমন টাইপের। কি করে বুঝলাম? অন্তত কম করে হলেও কমপক্ষে 10 থেকে 15 জন বলেছে আমি নাকি দেখতে তাদের পরিচিত কোন এক জনের মত। কারো ভাই, কারো বন্ধু কারো বা সন্তান দেখতে ঠিক আমার মত। একবার আচমকা একটা থাবা এসে পরল আমার পিঠে আমি ঘুরে তাকাতেই দেখি বিরাট সাইজের একটা লোক ৩২টা দাঁত বের করে হাসছে। আমার মেজাজতো তখন চরমে। ইচ্ছা করছিল একটা ঘুষি দিয়ে বেটার নাক ফাঁটিয়ে দেই কিন্তু লোকটার সাইজ দেখে ইচ্ছাটাকে দমন করলাম। লোকটা হাসতে হাসতেই বলল, কিরে ব্যাটা কেমন আছিস? আজকালতো তোকে দেখায় যায় না, কই থাকিস বলতো? সত্যি কথা বলতে কি থাবাটা এতই জোরে ছিল যে আমি কিছুক্ষনের জন্য কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলাম। এমনিতেই শরিরে মাংস নেই সমান্য কিছু হাড্ডি চামড়াটা বেধেঁ রেখেছে। এই শরীরে থাবাটা হজম করতে আমার বেশ কষ্টই হয়েছিল। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম সরি, আমি কি আপনাকে চিনি? লোকটা দেখলাম বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে, মুখটা কাচুমাচু করে বলল সরি আসলে আপনার চেহারা অনেকটা আমার বন্ধুর মত। আমি মিনমিন করে বললাম সেটা ঠিক আছে, কিন্তু থাবাটা একটু আস্তে মারলেও পারতেন। মাঝে মাঝেই আমাকে নাকি অনেক জায়গায় দেখা যায় এমন কি যেসব জায়গায় আমি আমার বাবার জন্মেও যায়নি। অনেকে নাকি থানার সন্ত্রাসীর টপ চার্টেও আমাকে দেখেছে। একজনতো বলেই বসল


short bengali drama script                              bangla kobita


: কিরে ব্যাটা তুই এখানে ক্যান? তোর না জেলে থাকার কথা!
আমি আঁকাশ ফুড়ে পাতাল ভেদ করে জমিনে পড়ার মত হতবাক হয়ে বললাম
- কেন জেলে কেন?
: আরে ব্যাটা চুরি করবি আর জেলে থাকবি না!
আমিতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম, আমার মত ভালো ছেলে গুগলে সার্চ করেও পাওয়া যাবে না আর আমি নাকি করেছি চুরি! আমি গলায় অতিরিক্ত মাধুর্য ডেলে বললাম
- সরি আপনার বোধয় কোথাও ভুল হচ্ছে! (বলা তো যায় না চোর ভেবে গণধৌলায় ও দিতে পারে)
লোকটা বেশ সময় নিয়েই আমাকে পর্যবেক্ষণ করে বলল
: সরি, আসলে আপনি দেখতে একদম আমার এলাকার নামকরা চোর মজিদ এর মত ।





যাক অবশেষে লোকটার ভুল ভাঙ্গলো আমিও হাফ ছেড়ে বাচঁলাম। এই কমন চেহারা নিয়ে কি বিপদেই না পড়েছি! তবে শুধু চোর সন্ত্রাসি নয় এক অতিশয় ভদ্রলোক নাকি আমাকে তার এলাকার চেয়্যারম্যানের চেয়ারে বসে আড়াম করে হুক্কা টানতে দেখেছে। যাক তবুও ভাল লাগলো এই চোর ছ্যাচচোরের সমাজে কেউ একজন আমাকে উচ্চপদস্থ চোরের আসনেই দেখেছে। তবে আজকাল আর সমস্যা হয় না। প্রচন্ড ভীরের মাঝেও যদি কেউ বলে, কিরে কেমন আছিস? আমি এক গাল হেসে বলি এইতো ভালো, তোর খবর কি? এমনভাবে বলি যেন সে আমার কতকালের চেনা। অবশ্য আমাকে তেমন কিছু বলতে হয় না ওরাই সব বলে। আমি শুধু তালের সাথে তাল মিলায়। অনেকই আছে যারা হয়তো এখনো জানেনা যে, সে ভুল করে ভুল মানুষের কাছে এমন কিছু বলেছে যা কখনোই বলা উচিত্‍ নয়। এই কমন চেহারা বিড়ম্বনা আজো চলছে। শুধু একটাই আফসোস থেকে গেল আজ পর্যন্ত কোন রমণি এসে বলেনি আপনি দেখতে একদম আমার স্বামীর মত। কোন সাবালিকা এসে ভুল করে হাত ধরেনি, বলে নি সরি আসলে আপনি দেখতে একদম আমার প্রেমিকের মত। আচ্ছা আমার মত চেহারার লোকদের কি প্রমিকা থাকে না! লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে ভালবাসার নঁকশী কাঁথা বুনা লাজুক রাঙ্গা বউ থাকে না! আবশ্য অনেকেই বলে আমার চেহারা নাকি বাদরের মত তারাও হয়তো মানুষ হতে পারেনি। সাধে কি আর বলি আমার চেহারা খুবি কমন দেখেন কেমন বাদরের সাথেও মিলিয়ে দিল।

nogorkatha - নগর কথা - 


ভালোবসার প্রতিশোধের গল্প

কষ্টের ভালবাসার গল্প | koster valobasar golpo

যন্ত্রণায় কাতঁরাই

কষ্টের প্রেমের গল্প

ফাযলামির সীমা থাকলেও সীমার ফাযলামি গুলো কখনওই শেষ হত না। হটাৎ রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়ে দেখতাম ম্যানিব্যাগে কোন টাকা নেই ছোট্ট একটা চিরকুটে লেখা 'কি জনাব মনে পড়লো আমাকে! বলেছিলাম না! ভুলতে দেব না'। অজব! পুরাই ফাজিল মেয়ে, একে দুই বেলা নিয়ম করে থাপড়ানো দরকার। হটাৎ মাঝ রাতে অক্লান্তিকর ভাবে আমার ফোনটা বেজেই চলতো, আমি ঘুম জড়ানো চোখ নিয়ে ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসতো একটা নরম মধুর কন্ঠ। কড়া ধমকের সুরে বলতো 'কি খুব ঘুমানো হচ্ছে না!' আমি বিরক্তির ভান করে বলতাম 'আজব মধ্য রাতেতো মানুষ ঘুমায়, নাকি! মাঝ রাতেতো আর কেউ ফুটবল খেলে না।' সে অভীমানি সুরে বলতো 'আমার ঘুম আসছে না।' আমি বিরক্তি হবার ভান রেখেই বলতাম 'তো আমি কি করব! আমাকে ঘুমাতে দাও।' সে ধমকের সাথে অভীমান মিশিয়ে বলতো 'উহু, আমার ঘুম আসছে না আর তুমি নাক ডেকে ঘুমাবা! তা হবে না। আমার সাথে তোমাকেও জাগতে হবে'। কোন মন্ত্রেই সে আর পোষ মানতো না। আগত্যা আমাকেই জেগে থাকতে হত, ছাগলের পাতা চিবানোর মতই আমাকে তার সাথে বকর বকর করতে হত। আমার কিন্তু খারাপ লাগতো না। যন্ত্রণা পীড়াদায়ক হয়, কিন্তু আমাকে প্রেরণা দিত। কোন কোন বিকালে সে আমার কাঁধে চুল এলিয়ে দিয়ে বলতো 'আমি তোমাকে অনেক যন্ত্রণা দেই, না!' আমার ঠোঁটের হাসি প্রশস্থ হত। সে নিজে থেকেই আবার বলতো 'দেখো একদিন আমি সুবোধ বালিকা হয়ে যাব, তোমাকে আর যন্ত্রণা দেব না' আমার ঠোঁটের হাসি হাওয়ায় মিলিয়ে যেত। আমাদের প্রেম সম্পূর্ণ এক গল্পের মতই ছিল, সব গল্পের যেমন শেষ হয় আমাদেরও হল। তার উচ্চভীলাসি চাওয়ার কাছে আমার ভালোবাসা সিগারেটের ধৌয়ার মত উড়ে গেল। সেই থেকে সিগারেট টাই সঙ্গী হল, সিগারেটের সাথে আমার অনেক মিল, সিগারেটও জ্বলে আমিও জ্বলি। আজ তার সব হয়েছে, একটা গোছানো ঘর, সাজানো সংসার, কোল আলো করা ফুটফুটে একটা সন্তান। শুধু আমি সব হারিয়েছি। এখন সে সুবোধ গৃহীণি, আমাকে একদম জ্বালায় না। আমি বেশ শান্তিতেই আছি। এখন মাঝ রাতে আর কেউ ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গায় না, তবুও রাতের পর রাত আমি জেগে থাকি। এখন রিক্সার ভাড়া দিতে গিয়ে আর কারো কথা মনে পরে না, তবুও প্রতিটা নিঃস্বাশে কেনো জানি একটা দীর্ঘনিঃস্বাশ বেড়িয়ে যায়। এখন আমি বেশ ভালো আছি, শান্তিতে আছি। আচ্ছা, শান্তিতো আনন্দায়ক তবুও কেন আমাকে পীড়াদেয়? প্রতিটা দিন, প্রটিটা রাত, প্রতিটা নিঃস্বাশে আমি যন্ত্রণায় কাতঁরাই.........।।

nogorkatha - নগর কথা 


প্রে

ভালবাসার গল্প

ঐ মিয়া আপনার কি গুড়া কৃমি আছে, কামরায়? এত পেচাল পারেন ক্যান? নিজের কাজে যান। বেশি কথা কইলে প্যান খুলে হাতে ধইরা দিমু।
আশফাকুর রহমান হচকচিয়ে গেলেন এই এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি যে দিন বাড়ী ভারা নিতে আসেন সেদিন অনেকই বলেছে কিন্তু মিসেস রাহমান কিছুই শোনেনি। আশফাকুর কত করে বললেন এই এলাকায় আসার দরকার নাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। মিসেস রাহমান জিদ ধরলেন তিনি এই এলাকায় এবং এই বাড়ীতেই থকবেন। অগত্যা আশফাকুর রাহমান কে এই এলাকায়ই থাকতে হল। অতঃপর তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি এই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন। আসলে মেয়ে মানুষের কথা শোনাই ভুল। এজন্যই বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি থাকে হাটুর নিচে। এইযে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হলাম তা তো এই নারীরই ভুলে। আশফাকুর রহমান এখন যে বিপদে পড়েছেন তা তো বউ এর করণেই। পিচ্চি একটা ছেলে বলে কিনা প্যান্ট খুলে হাতে ধরে দিবে। ছোট বেলায় অবশ্য প্যান্ট হাতে নিয়ে ঘোরা যেত, কত ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু এই বয়সে প্যান্ট হাতে নিয়ে ঘোরাটা ঠীক মানাবে না তাছারা তিনি একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁর একটা মান-স্মমান আছে না! এখন না হয় রিটায়ার করেছেন তাই বলে তো আর প্যান্ট হাতে নিয়ে ঘুরে বেরাতে পারেন না। তাছারা প্যান্ট খুলার মত কোন ঘটনা ঘটেছে কি! তিনি তো তেমন কিছু বলেননি, ছেলেটার সাথে ধক্কা লেগে তাঁর পাঞ্জাবী ছিরে গেছে, তিনি শুধু বলেছেন এই ছেলে দেখে চলতে পারো না। এটাকি প্যন্ট খুলে হাতে ধরিয়ে দেবার মত কোন অপরাধ! আশফাকুর রাহমান বুঝতে পারছেন না, তিনি কি করবেন, এই ছেলের সাথে তর্ক চালিয়ে যাবেন না এড়িয়ে যাবেন! এরকম বেয়াদব ছেলের সাথে তর্ক চালিয়ে যাবার কোন মানেই হয়না। তাছাড়া তর্ক করলে হিতে বিপরিত হতে পারে তাই আশফাকুর রহমান ছেলেটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হাটা শুরু করলেন। ছেলেটা মনে হয় আশফাকুর রহমানের এমন পরাজয়ে আরও বেশি প্রশয় পেল আরও উচ্ছাস নিয়ে বলল কি আংকেল ভয় পাইছেন? আশফাকুর রহমান রাগে গজগজ করতে করতে বাড়ীর দিকে ছুটলেন।
বাড়ীটা মিসেস রহমানের বেশ পছন্দ হয়েছে। দুই রুমের ফ্ল্যাট, প্রসস্ত বারান্দা, দক্ষিণা মুখি জানালা। জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস আসে। ঢাকা শহরে এ রকম বাড়ী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। মিসেস রাহমান এই বাড়ীতে এসে বেশ খুশি। আশফাকুর রাহমান বউয়ের হাসি মুখ দেখে সব ভুলে গেলেন। তাঁরা নিঃসন্তান, এই নিয়ে মিসেস মিসেস রহমানের কত আক্ষেপ! বলতে গেলে সারাক্ষণ মনমরা হয়ে বসে থাকত। আজ কতদিন পর আশফাকুর রহমান তাঁর বউয়ের হাসি মুখ দেখলেন। তাছাড়া মিসেস রাহমানের হাসিতে অন্য রকম এক ভালোলাগা আছে। রবীন্দ্রনাথ হয়তো এরকম হাসি মুখ দেখেই বলেছিলেন "কাহারো হাসি ছুরির মাত কাটে কাহারো হাসি অশ্রুজলের মত"। আশফাকুর রাহমানের কেবল একটা কথায় মনেহল এরকম হাসি মুখ দেখার জন্য তিনি এই বয়সেও প্যান্ট হাতে নিয়ে ন্যাংটো হয়ে পুরো ঢাকা শহর ঘরতে পারেন।

bengali short story script আত্তচিত্র

ভালোবসার প্রতিশোধের গল্প | Daini valobasar protishodher golpo

ডাইনী (একটি প্রতিশোধের গল্প)

কষ্টের ভালবাসার গল্প 

চাঁদ সুন্দর, কিন্তু ধরা যায় না ছোয়া যায় না। তেমনি কিছু মেয়ে আছে, যারা চাঁদের মতই সুন্দর। তাদেরকেও ধরা যায় না ছোয়া যায় না। শুধু দূর থেকে দেখলে একটা অস্ফুটিত হাহাকার আর আফচোসের কয়েকটা শব্দ ঠোট গলে বেড়িয়ে যায়। নীলাও সুন্দর চাঁদের মতই সুন্দর কিন্তু নীলা কে ধরা যায় ছোয়া যায়। মেয়েটা কেমন যেন, হাতের কাছেই থাকে । চাইলেই যে কেউ ধরতে পারে ছুতে পারে। বড্ড শরীর ঘেঁষাঘেঁষি স্বভাব। নীলা কে যেদিন প্রথম দেখি, আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম। তারপর থেকে যতবার দেখেছি শুধু তাকিয়েই থেকেছি। কখনো কাছে যাওয়ার সাহশ পায়নি। ছোটবেলায় নানী গল্প শোনাতো। যত রাক্ষুশি-ডাইনি আছে তারা নাকি সুন্দরী মেয়েদের রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আসে। তারপর থেকে সুন্দরী মেয়ে দেখলেয় আমার ভয় করে, হৃদপিণ্ড কেমন যেন কাঁপতে থাকে। নীলাকে দেখলেও কাঁপে, বুক ধরফর করে ওঠে। চাঁদের কলঙ্ক আছে, চাঁদের কলঙ্ক কি? আমি জানি না। নীলারও কলঙ্ক আছে, ক্যম্পাসের সবাই জানে। রাতুলের সাথে নীলার সম্পর্ক ছিল। রাতুলের সাথে থাকা অবস্থায় নিলয়ের সাথে নীলা কে দেখা গেল। নীলয়ের গার্লফ্রেন্ড ছিল রিয়া। রিয়া, নীলার মত অত সুন্দর না তবে বেশ মিষ্টি মিষ্টি চেহারা। একটু বোকাসোকাও বটে। এই বোকা মেয়েটাই ভয়ংকর একটা কাজ করে বসলো। পুরো ক্যম্পাসে রটিয়ে দিলো নীলা মানুষ না, একটা ডাইনী। সে যে ছেলের দিকে হাত বাড়াবে সেই ছেলেয় তার বশ হয়ে যাবে, প্রমাণও মিললো হাতেনাতে। এইতো সজীবও এসে বললো সেও নীলার সাথে রাত কাটিয়েছে। মেয়েটা বড্ড দয়াশীল। যেই হাত পেতেছে তারই দু হাত পূর্ণ করে দিয়েছে।

bangla kobita


আমি নীলার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই চলতাম। তবুও সেদিন ক্লাস শেষে যখন বেড়োতে যাবো দেখি নীলা আমাকে ডাকছে । আমার পা থমকে গেল, মেরুদন্ড দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। আমি প্রাণপণে চাইলাম ছুটে পালাতে কিন্তু শরীর কিছুতেই নড়ছে না। পা দুটো যেন বরফ হয়ে গেছে। নীলা আমার হাত ধরে টানতে টানতে ক্যন্টিনে নিয়ে গেল। ক্যন্টিন ফাকাই ছিল তবুও নীলা আমাকে কোণার একটা সিটের দিকে নিয়ে গেল। বসতে বসতে বললো "তুমি যে আমাকে পছন্দ করো আমি জানি"। আমি হা করে নীলার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নীলা ঠোটে হাসি টেনে বললো "যে দিন আমি তোমাকে প্রথম দেখি, সেদিনও দেখেছি তুমি আমার দিকে এমন হা করে তাকিয়ে আছো"। আমি ঠোট বন্ধ করলাম। নীলা আমার কানের আছে মুখ এনে বললো " কাজটা ঠীক করোনি একজন ডাইনিকে ভালোবাসা তোমার উচিত হয়নি। জানোতো, আমি একটা ডাইনী আর ডাইনীর সাথে যারা সঙ্গম করে তারা প্রত্যকেই মারা যায় । সজীব, নীলয়, রাতুল এরাও মারা যাবে অথোচো বোকারা এখোনো জানেই না"। আমি কিছু বলতে পারছিলাম না, অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম নীলার দিকে। এই মেয়েটা কি সব বলছে! নীলা নিজে থেকেই আবার বলতে শুরু করলো " শুনবে আমার ডাইনী হয়ে ওঠার গল্প?"। আমি মনেপ্রাণে চিৎকার করে বলেছিলাম না, শুনবো না কিন্তু মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের করতে পারিনি। নীলা বলে চলেছে " সে দিন ছিল আমার বান্ধবীর এর ভাইয়ের বিয়ে। ঐ বাড়িতে আমার আগে থেকেই যাতায়েত ছিল তাই বাড়ীর সবাই আমাকে চিনতো। হটাত আমার ফ্রেশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ায় নীচ তালায় ভীর বলে আমি দোতালায় গেছিলাম। দোতালা ফাকাই ছিল। আমি বাথরুমে ঢোকার পড়েয় কারেন্ট যায়। জেনারেটর চালু করতে দেরী হচ্ছিলো বলে আমি বের হতে যাবো ঠীক তখনি একটা রাক্ষশ এসে আমার মুখ চেপে ধরে, ঠেলে নিয়ে যায় ভেতরে"। নীলা কাঁদছে, হাঊমাউ করে কাঁদছে। সান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা নেই। আমি আমার হাত নীলার হাতের উপর রাখলাম। নীলা নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলো " ঘৃণায়-লজ্জায় সেই কথা আমি কাউকে বলতে পারিনি শুধু মা কে বলেছিলাম মাও চেপে যেতে বললেন। তখনো জানতাম না যে ঐ রাক্ষশটাই আমাকে অভিশপ্ত করেছে। রাতুল কে আমি ভালবাসতাম কিন্তু রাতুল আমাকে নিয়ে শুধুই খেলেছে। ওর আর আমার কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে দিনের পর দিন আমাকে ব্লাকমেল করেছে। প্রথম যেদিন আমি ভিডিওটা দেখেছিলাম এতটাই শকড হয়েছিলাম যে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। ক্লিনিকে যেতে হয়েছিলো আর সেখানেই জেনেছি আমি এইচ আই ভি পজেটিভ। রাতুল আমাকে নীলয়ের শুতে বলেছিলো। আমার কি হয়েছিলো আমি জানি না রাগ, ক্ষোভ আর প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ হয়ে আমি আমার এইডস এর কথা চেপে গেলাম। তারপর রাতুল যার যার সাথে বলেছে সবার সাথেই আমি রাত কাটিয়েছি। ওরা সবাই এখন আমার ভাইরাস বয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিটা ডাইনিই চায় তার অস্তিত্ব টিকে থাক"। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না আবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম নীলার দিকে। ওর চোখ গুলো কি গভীর! নীলা বলছিলো " এসব কথা আমি কাউকে বলিনি শুধু তোমাকেই বললাম।" আমি নীলার দিক থেকে মুখটা অন্য দিকে ফিরিয়ে বলেছিলাম" আমাকেই কেনো বললে?"। নীলা বললো "আমি খুব বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েছি, বাবা আমাকে বাহিরে পাঠীয়ে দিচ্ছেন তিনি চান না তার মেয়ের কলঙ্কের কথা সবাই জেনে যাক আর কখনোই তোমার সাথে দেখা হবে না।" আচমকা আমার হাটতা চেপে ধরে বললো " সবার মত তুমিও নিশ্চয় আমাকে নষ্ট মেয়ে ভাবো কিন্তু বিশ্বাস করো আমি নষ্ট মেয়ে না, আর যে যাই ভাবুক তুমি আমাকে নষ্ট ভেবো না, প্লিজ।" বলেই নীলা কাদতে কাদতে চলে গেলো। আমার চোখের কোণে তীরতীরে ব্যাথা , ঝাপসা চোখে আমি নীলার চলে যাবার দিকে তাকিয়ে আছি।
সেদিনের পর থেকে নীলাকে আর কখনো দেখিনি। রাতুল মারা গেছে। সজীব, নীলয়ও অসুস্থ। আমার পাশের কেবিনেই ওরা আছে। আমিও ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। সেই দিনের সেই বিয়ের অনুষ্ঠান ছিলো আমার কাজিনের। সেখানেই নীলা কে দেখে আমি রাক্ষশ হয়ে উঠেছিলাম। সে কথা কেঊ জানে না, সবাই ভেবেছে আমিই ছিলাম নীলার শেষ শিকার কারণ আমার সাথেয় শেষ বার নীলাকে দেখা গেছে।

(কষ্টের প্রেমের গল্প)

বাংলা গল্প

bengali short story script | Film Scrip

আত্তচিত্র

কষ্ট জীবনের গল্প

দৃশ্যঃ ১
সময়ঃসকাল
চরিত্রঃ সেজাদ
স্থানঃ সেজাদের বেডরুম
সেজাদ দাড়িয়ে আছে, সেজাদের ঠিক সামনে সেজাদের মত পোষাক পড়ে দাঁড়িয়ে আছে আর একজন। লোকটার হাতে একটা ছুরি চকচক করছে। ভয়ে সেজাদ থড়িথড়িয়ে কাঁপছে। চিপ বেয়ে ঘাম ঝড়ছে। আচমকা ছুরিটা সেজাদের গলা চিড়িয়ে দিলো। রক্ত ছিটকে গিয়ে লাগলো লোকটার জামায়। সেজাদ নিস্তেজ হয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লো। লোকটা পা দিয়ে সেজাদের বডিটা নাড়া দিলো। সেজাদের কোন রেন্সপন্স না পেয়ে চলে গেল বেসিং এ। ছুরিটা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে গেয়ে রাখলো ....। রাখার সময় এক ফোটা রক্ত লোকটার হাত বেয়ে গড়িয়ে পড়লো ছুরির ধার বেয়ে। লোকটা সেদিকে লক্ষ্য না করে বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার নিলো। শাওয়ার শেষে প্যান্ট শার্ট পড়ে টাইটা নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো আয়নার সামনে। টাইটা বেঁধে একটু ঝুকে চুল ঠিক করলো। প্রথম বারের মত সেই সময় আয়নায় লোকটার চেহারা দেখা গেল। লোকটার চেহারা একদম সেজাদের মত। যেন সেজাদের প্রতিবিম্ব। সেই প্রতিবিম্বের ঠোটে একটা অদ্ভুদ হাসি আর আয়নায় দেখা যায় সেজাদের লাশ পরে আছে। গল্পটা বোঝার জন্য আমরা এই খুনিটাকেই সেজাদ ধরে নেই ।

দৃশ্যঃ
সময়ঃ সকাল
চরিত্রঃ সেজাদ
স্থানঃ বাসা
সেজাদ রিক্সার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। ডানে তাকাবে তারপর বামে তাকাবে। বামে তাকিয়ে দেখবে একটা লোক উস্কোখুস্কো চুল, খোচাখোচা দাড়ি, ময়লা শার্ট, ছেড়া চটি পড়ে চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে চা খাচ্চে আর তার দিকে তাকিয়ে আছে। সেজাদ লক্ষ্য করে দেখবে লোকটার ঠোটে এক অদ্ভুদ হাসি আর লোকটা দেখতে ঠিক সেজাদের মত। রিক্সার খোঁজে সামনে তাকিয়ে দেখবে রাস্তার ওপর পাশে একটা ফকির বসে আছে। সেও সেজাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে তার চেহারাও ঠিক সেজাদের মত। সেজাদ ভয় পেয়ে যাবে। তড়িঘড়ি করে সামনে একটা ফাকা রিক্সায় উঠে যাবে। রিক্সা চলে যাবে ( পেছন থেকে শর্ট)।


প্রেম বিচ্ছেদ কবিতা


দৃশ্যঃ
সময়ঃ সকাল
চরিত্রঃ সেজাদ
স্থানঃ অফিস
সেজাদ রিক্সা থেকে নেমে রিক্সার ভারা দিতে যাবে। তখন রিক্সায়ালা বলবে
রিক্সায়ালাঃ কত দিচ্ছেন আরো ১০ টাকা বাড়িয়ে দিন।
সেজাদ রেগে রিক্সায়ালা কে কিছু বলতে গিয়ে রিক্সায়ালার দিকে তাকিয়ে দেখবে রিক্সায়ালাও সেই অদ্ভুদ ভাবে হাসছে এবং রিক্সায়ালার চেহারাও ঠিক তার মত দেখতে। সেজাদ ভয় পেয়ে আরো ১০ টাকা বাড়তি দিয়ে তারাতারি অফিসে ডুকবে।

দৃশ্যঃ ৪
সময়ঃ সকাল
চরিত্রঃ সেজাদ
স্থানঃ সেজাদের ডেস্ক

সেজাদ অফিসে ডুকে নিজ ডেস্কে গিয়ে বসে টেবিলের উপড় থেকে পানির গ্লাস নিয়ে ডকডক করে খেতে থাকবে। তখন অফিসের পিয়ন আসবে।
পিয়নঃ বস আপনাকে ডেকেছেন, এখনি যেতে বলেছেম।
সেজাদ পানির গ্লাসটা রেখে রাগি রাগি ভাব নিয়ে পিয়নের দিকে তাকিয়ে দেখবে। পিয়নটাও সেই অদ্ভুদ ভাবে হাসছে। পিয়নটার চেহারাও ঠিক সেজাদের মত। সেজাদ আর পিয়ন কে কিছু না বলে ডেস্ক ছেড়ে বসের রুমের দিকে যাবে।

দৃশ্যঃ ৫
সময়ঃ সকাল
চরিত্রঃ সেজাদ, বস
স্থানঃ বসের রুম

সেজাদ বসের রুমের দরজা খুলবে।
সেজাদঃ আসতে পারি স্যার?
বসঃ (সেজাদের ল্যাপটপ ঘাটছিলো, সে সাজাদের দিকে না তাকিয়ে) আসুন, অফিসটাকে কি আপনার বাবার যে যখন খুশি আসবেন!
কয়টা বাজে?
সেজাদ কিছু বলছে না দেখে বস সেজাদের দিকে তাকায়ে ঘাবড়ে যাবে। ভয়ে ভয়ে রুম ছেড়ে বাইরে বেড়িয়ে যাবে। সেজাদ আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখবে তার ঠোটেও সেই অদ্ভুদ হাসি লেগে আছে এবং সে দেখতে বসের মত হয়ে গেছে।

দৃশ্যঃ ৬
সময়ঃ সকাল
চরিত্রঃ বস

বস অফিস থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় দাঁড়াবে। ডানে তাকিয়ে দেখবে তার মত দেখতে একটা ছেলে। উস্কোখুস্কো চুল, খোচাখোচা দাড়ি, ময়লা শার্ট, ছেড়া চটি পরে তার দিকে আছে। ছেলেটার ঠোটে সেজাদের মত অদ্ভুদ হাসি। বস বামে তাকিয়ে দেখবে একটা ফকির তার দিকে তাকিয়ে সেই অদ্ভুদ ভাবে তার হাসছে ফকিরটা দেখতে তার মত। বস ভয় পেয়ে যাবে। কিছু দূড়েয় একটা রিক্সা দেখে তরিঘরি করে রিক্সার দিকে ছুটতে গিয়ে দেখবে রিক্সায়ালাটাও তাকে দেখে হাসছে রিক্সায়ালাটার চেহারাও দেখতে ঠিক তার মত।




বাংলা গল্প

nogorkatha - নগর কথা