FreeWebSubmission.com
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ডাইরির পাতা থেকে | dairir pata theke



ডাইরীর পাতা

আমার মনের ডাইরির পাতা                                           

আমি বরাবরই বোকা ও ভীতু ছিলাম, আজও আছি গতকালও ছিলাম। কেমন ভীতু? গতকালের কথাই ধরা যাক। একটা মেয়ে, কখনও আমি তার সামনে কখনও সে আমার, কখনো বা দুজনে পাশাপাশি হাটছি। হাতটা ধরতে চাইলে হয়তো দিত, হয়তোবা গালে এঁকে দিত পাঁচ আঙ্গুলের দাগ! মেয়েটা থমকে দাড়িয়েছিল হয়তো অকপটে কিছু তীক্ষ্ণ কথা বলতো অপমান করার চেষ্টা করত, হয়তো বা করত না। আমি তার চোখের গভীরতায় হাবুডুবু খাচ্ছি দেখে আবেগে আমার হাতটা ধরত। কোন এক পরন্ত বিকালে আমার বুকে মাথা এলিয়ে দিয়ে বলতো এভাবে তোমার বুক পাজরে আমাকে সারাজীবন বেঁধে রাখবে? আমি বলতাম, আমার বুকের জমিন ভালবাসার দামে তোমার কাছে বিক্রি করে দিছি, তুমি চাইলে অট্রালিকা বানাতে পারো চাইলে কুড়েঘর, চাইলে ধু ধু মরুভূমি, অতল সাগর অথবা সবুজ অরণ্য। বালিকা আমার বুকে মাথা রেখেয় বলতো, তোমার বুকে শুধু মাথা গোজার ঠাঁই দিও। কিন্তু আমি দাঁড়াইনি তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই চলে গেছি। আমার বুকে সে সাহস টুকু ছিল না।

অথবা আজকের কথাই ধরা যাক, মেয়েটা হুরপরি টাইপ কিছু না তবে আমার কল্পনায় যেমন মেয়ে আসে ঠিক তেমন। কলঙ্ক কি সুন্দরর্য বৃদ্ধি করে! চাঁদ সুন্দর চাঁদের কলঙ্ক আছে, তাজমহল সুন্দর তাজমহলের পেছেনেও কুৎসিত কাহীনি আছে। মেয়েটার ঠোটের নিচে ছোট্ট তিলটা কি কলঙ্ক! নাকি প্রকৃতি মেয়েটার মুখে ছোট্ট টিপ এঁকেছে যেন নজর না লাগে। মেয়েটা পলকহীনভাবে তাকিয়ে ছিল। তার চোখে চোখ পরতেই আমিই বারবার চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলাম। আমাকে অপ্রস্তুত হতে দেখেই হয়তো মেয়েটা চলে গেল। যাবার আগে অবশ্য হাত ইশারায় বিদায় জানাল। কি এমন হত যদি মেয়টার কাছে গিয়ে নাম জানতে চাইতাম, চাইলে হয়তো ফোন নাম্বারও দিত। কিন্তু আমি চাইতে পারিনি, কেননা সে সাহস আমার আজও হয়নি।



 প্রতিশোধের গল্প


কিংবা সেই দিনের কথাই ধরা যাক, মেয়েটা রীতিমত হুরপরি। আমার বাপের জন্মেতো দুরের কথা, বাপ দাদা চৌদ্দ গুষ্টির জন্মেও এমন সুন্দর মেয়ে দেখিনি। অতিরিক্ত উত্তেজনায় বোধহয় বেশ জোরেই বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম, দেখ দেখ হুরপরি। মেয়েটার সাথে ভাল মানুষ গোছের একটা ছেলে হয়তো ভাই! কেননা প্রেমিক টাইপ মনে হচ্ছিল না। ছেলেটা আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছিল, কোন সমস্যা? আমি মাথা নুইয়ে মিনমিনে গলায় বলেছিলাম না কোন সমস্যা নেই। আমি সেইদিনও বলতে পারিনি 'আমার জানামতে হুরপরি থাকে বেহেস্তে উনি বোধহয় ভুল করে পৃথিবীতে এসেছেন, আমি আগে কখনও হুরপরি দেখিনি সমস্যা বলতে এইটুকুই'। কি এমন হত বললে, হয়তো ভাল মানুষ গোছের ছেলেটা রেগে অভদ্র হত, আমার কলার চেপে ধরতে চাইতো, দু-চারটে চড় থাপ্পড় মারতো। মেয়েটার চোখে ভয়, হয়তো আমার জন্য একটু মায়া ফুটে উঠতো । এমন মেয়ের জন্য হাসতে হাসতে জীবন দেওয়া যায়, কিন্তু আমার র্হাটটাই একটু দূর্বল তাই সেই দিন চড় খেতে পারিনি।

তপ্ত রোদে পুড়ে পুড়ে আমি যখন নিঃস্বেশ একটু পানির আশায় চেয়ে থাকি, ঈষাণ কোণ থেকে গুড়ুম গুড়ুম শব্দে ভেশে আসে কালো মেঘ, আমি ভয় পাই ঘোরের কোণে লুকিয়ে পরি এই বুঝি শুরু হয় কাল বৈশাখী ঝড়। আমার আর বৃষ্টিতে ভেজা হয় না ভালবাসায় সিক্ত হওয়া হয় না। কেনো এময় হয় ? ঐযে বললাম আমি একটু ভিতু আমার র্হাটটাই একটু দূর্বল।


Film Script পড়তে এখানে ক্লিক করুন

nogorkatha - নগর কথা - bangla golpo - গল্প 

কষ্টের ভালবাসার গল্প | koster valobasar golpo

যন্ত্রণায় কাতঁরাই

কষ্টের প্রেমের গল্প

ফাযলামির সীমা থাকলেও সীমার ফাযলামি গুলো কখনওই শেষ হত না। হটাৎ রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়ে দেখতাম ম্যানিব্যাগে কোন টাকা নেই ছোট্ট একটা চিরকুটে লেখা 'কি জনাব মনে পড়লো আমাকে! বলেছিলাম না! ভুলতে দেব না'। অজব! পুরাই ফাজিল মেয়ে, একে দুই বেলা নিয়ম করে থাপড়ানো দরকার। হটাৎ মাঝ রাতে অক্লান্তিকর ভাবে আমার ফোনটা বেজেই চলতো, আমি ঘুম জড়ানো চোখ নিয়ে ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসতো একটা নরম মধুর কন্ঠ। কড়া ধমকের সুরে বলতো 'কি খুব ঘুমানো হচ্ছে না!' আমি বিরক্তির ভান করে বলতাম 'আজব মধ্য রাতেতো মানুষ ঘুমায়, নাকি! মাঝ রাতেতো আর কেউ ফুটবল খেলে না।' সে অভীমানি সুরে বলতো 'আমার ঘুম আসছে না।' আমি বিরক্তি হবার ভান রেখেই বলতাম 'তো আমি কি করব! আমাকে ঘুমাতে দাও।' সে ধমকের সাথে অভীমান মিশিয়ে বলতো 'উহু, আমার ঘুম আসছে না আর তুমি নাক ডেকে ঘুমাবা! তা হবে না। আমার সাথে তোমাকেও জাগতে হবে'। কোন মন্ত্রেই সে আর পোষ মানতো না। আগত্যা আমাকেই জেগে থাকতে হত, ছাগলের পাতা চিবানোর মতই আমাকে তার সাথে বকর বকর করতে হত। আমার কিন্তু খারাপ লাগতো না। যন্ত্রণা পীড়াদায়ক হয়, কিন্তু আমাকে প্রেরণা দিত। কোন কোন বিকালে সে আমার কাঁধে চুল এলিয়ে দিয়ে বলতো 'আমি তোমাকে অনেক যন্ত্রণা দেই, না!' আমার ঠোঁটের হাসি প্রশস্থ হত। সে নিজে থেকেই আবার বলতো 'দেখো একদিন আমি সুবোধ বালিকা হয়ে যাব, তোমাকে আর যন্ত্রণা দেব না' আমার ঠোঁটের হাসি হাওয়ায় মিলিয়ে যেত। আমাদের প্রেম সম্পূর্ণ এক গল্পের মতই ছিল, সব গল্পের যেমন শেষ হয় আমাদেরও হল। তার উচ্চভীলাসি চাওয়ার কাছে আমার ভালোবাসা সিগারেটের ধৌয়ার মত উড়ে গেল। সেই থেকে সিগারেট টাই সঙ্গী হল, সিগারেটের সাথে আমার অনেক মিল, সিগারেটও জ্বলে আমিও জ্বলি। আজ তার সব হয়েছে, একটা গোছানো ঘর, সাজানো সংসার, কোল আলো করা ফুটফুটে একটা সন্তান। শুধু আমি সব হারিয়েছি। এখন সে সুবোধ গৃহীণি, আমাকে একদম জ্বালায় না। আমি বেশ শান্তিতেই আছি। এখন মাঝ রাতে আর কেউ ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গায় না, তবুও রাতের পর রাত আমি জেগে থাকি। এখন রিক্সার ভাড়া দিতে গিয়ে আর কারো কথা মনে পরে না, তবুও প্রতিটা নিঃস্বাশে কেনো জানি একটা দীর্ঘনিঃস্বাশ বেড়িয়ে যায়। এখন আমি বেশ ভালো আছি, শান্তিতে আছি। আচ্ছা, শান্তিতো আনন্দায়ক তবুও কেন আমাকে পীড়াদেয়? প্রতিটা দিন, প্রটিটা রাত, প্রতিটা নিঃস্বাশে আমি যন্ত্রণায় কাতঁরাই.........।।

nogorkatha - নগর কথা 


প্রে

ভালবাসার গল্প

ঐ মিয়া আপনার কি গুড়া কৃমি আছে, কামরায়? এত পেচাল পারেন ক্যান? নিজের কাজে যান। বেশি কথা কইলে প্যান খুলে হাতে ধইরা দিমু।
আশফাকুর রহমান হচকচিয়ে গেলেন এই এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি যে দিন বাড়ী ভারা নিতে আসেন সেদিন অনেকই বলেছে কিন্তু মিসেস রাহমান কিছুই শোনেনি। আশফাকুর কত করে বললেন এই এলাকায় আসার দরকার নাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। মিসেস রাহমান জিদ ধরলেন তিনি এই এলাকায় এবং এই বাড়ীতেই থকবেন। অগত্যা আশফাকুর রাহমান কে এই এলাকায়ই থাকতে হল। অতঃপর তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি এই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন। আসলে মেয়ে মানুষের কথা শোনাই ভুল। এজন্যই বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি থাকে হাটুর নিচে। এইযে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হলাম তা তো এই নারীরই ভুলে। আশফাকুর রহমান এখন যে বিপদে পড়েছেন তা তো বউ এর করণেই। পিচ্চি একটা ছেলে বলে কিনা প্যান্ট খুলে হাতে ধরে দিবে। ছোট বেলায় অবশ্য প্যান্ট হাতে নিয়ে ঘোরা যেত, কত ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু এই বয়সে প্যান্ট হাতে নিয়ে ঘোরাটা ঠীক মানাবে না তাছারা তিনি একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁর একটা মান-স্মমান আছে না! এখন না হয় রিটায়ার করেছেন তাই বলে তো আর প্যান্ট হাতে নিয়ে ঘুরে বেরাতে পারেন না। তাছারা প্যান্ট খুলার মত কোন ঘটনা ঘটেছে কি! তিনি তো তেমন কিছু বলেননি, ছেলেটার সাথে ধক্কা লেগে তাঁর পাঞ্জাবী ছিরে গেছে, তিনি শুধু বলেছেন এই ছেলে দেখে চলতে পারো না। এটাকি প্যন্ট খুলে হাতে ধরিয়ে দেবার মত কোন অপরাধ! আশফাকুর রাহমান বুঝতে পারছেন না, তিনি কি করবেন, এই ছেলের সাথে তর্ক চালিয়ে যাবেন না এড়িয়ে যাবেন! এরকম বেয়াদব ছেলের সাথে তর্ক চালিয়ে যাবার কোন মানেই হয়না। তাছাড়া তর্ক করলে হিতে বিপরিত হতে পারে তাই আশফাকুর রহমান ছেলেটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হাটা শুরু করলেন। ছেলেটা মনে হয় আশফাকুর রহমানের এমন পরাজয়ে আরও বেশি প্রশয় পেল আরও উচ্ছাস নিয়ে বলল কি আংকেল ভয় পাইছেন? আশফাকুর রহমান রাগে গজগজ করতে করতে বাড়ীর দিকে ছুটলেন।
বাড়ীটা মিসেস রহমানের বেশ পছন্দ হয়েছে। দুই রুমের ফ্ল্যাট, প্রসস্ত বারান্দা, দক্ষিণা মুখি জানালা। জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস আসে। ঢাকা শহরে এ রকম বাড়ী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। মিসেস রাহমান এই বাড়ীতে এসে বেশ খুশি। আশফাকুর রাহমান বউয়ের হাসি মুখ দেখে সব ভুলে গেলেন। তাঁরা নিঃসন্তান, এই নিয়ে মিসেস মিসেস রহমানের কত আক্ষেপ! বলতে গেলে সারাক্ষণ মনমরা হয়ে বসে থাকত। আজ কতদিন পর আশফাকুর রহমান তাঁর বউয়ের হাসি মুখ দেখলেন। তাছাড়া মিসেস রাহমানের হাসিতে অন্য রকম এক ভালোলাগা আছে। রবীন্দ্রনাথ হয়তো এরকম হাসি মুখ দেখেই বলেছিলেন "কাহারো হাসি ছুরির মাত কাটে কাহারো হাসি অশ্রুজলের মত"। আশফাকুর রাহমানের কেবল একটা কথায় মনেহল এরকম হাসি মুখ দেখার জন্য তিনি এই বয়সেও প্যান্ট হাতে নিয়ে ন্যাংটো হয়ে পুরো ঢাকা শহর ঘরতে পারেন।

bengali short story script আত্তচিত্র

ভালোবসার প্রতিশোধের গল্প | Daini valobasar protishodher golpo

ডাইনী (একটি প্রতিশোধের গল্প)

কষ্টের ভালবাসার গল্প 

চাঁদ সুন্দর, কিন্তু ধরা যায় না ছোয়া যায় না। তেমনি কিছু মেয়ে আছে, যারা চাঁদের মতই সুন্দর। তাদেরকেও ধরা যায় না ছোয়া যায় না। শুধু দূর থেকে দেখলে একটা অস্ফুটিত হাহাকার আর আফচোসের কয়েকটা শব্দ ঠোট গলে বেড়িয়ে যায়। নীলাও সুন্দর চাঁদের মতই সুন্দর কিন্তু নীলা কে ধরা যায় ছোয়া যায়। মেয়েটা কেমন যেন, হাতের কাছেই থাকে । চাইলেই যে কেউ ধরতে পারে ছুতে পারে। বড্ড শরীর ঘেঁষাঘেঁষি স্বভাব। নীলা কে যেদিন প্রথম দেখি, আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম। তারপর থেকে যতবার দেখেছি শুধু তাকিয়েই থেকেছি। কখনো কাছে যাওয়ার সাহশ পায়নি। ছোটবেলায় নানী গল্প শোনাতো। যত রাক্ষুশি-ডাইনি আছে তারা নাকি সুন্দরী মেয়েদের রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আসে। তারপর থেকে সুন্দরী মেয়ে দেখলেয় আমার ভয় করে, হৃদপিণ্ড কেমন যেন কাঁপতে থাকে। নীলাকে দেখলেও কাঁপে, বুক ধরফর করে ওঠে। চাঁদের কলঙ্ক আছে, চাঁদের কলঙ্ক কি? আমি জানি না। নীলারও কলঙ্ক আছে, ক্যম্পাসের সবাই জানে। রাতুলের সাথে নীলার সম্পর্ক ছিল। রাতুলের সাথে থাকা অবস্থায় নিলয়ের সাথে নীলা কে দেখা গেল। নীলয়ের গার্লফ্রেন্ড ছিল রিয়া। রিয়া, নীলার মত অত সুন্দর না তবে বেশ মিষ্টি মিষ্টি চেহারা। একটু বোকাসোকাও বটে। এই বোকা মেয়েটাই ভয়ংকর একটা কাজ করে বসলো। পুরো ক্যম্পাসে রটিয়ে দিলো নীলা মানুষ না, একটা ডাইনী। সে যে ছেলের দিকে হাত বাড়াবে সেই ছেলেয় তার বশ হয়ে যাবে, প্রমাণও মিললো হাতেনাতে। এইতো সজীবও এসে বললো সেও নীলার সাথে রাত কাটিয়েছে। মেয়েটা বড্ড দয়াশীল। যেই হাত পেতেছে তারই দু হাত পূর্ণ করে দিয়েছে।

bangla kobita


আমি নীলার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই চলতাম। তবুও সেদিন ক্লাস শেষে যখন বেড়োতে যাবো দেখি নীলা আমাকে ডাকছে । আমার পা থমকে গেল, মেরুদন্ড দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। আমি প্রাণপণে চাইলাম ছুটে পালাতে কিন্তু শরীর কিছুতেই নড়ছে না। পা দুটো যেন বরফ হয়ে গেছে। নীলা আমার হাত ধরে টানতে টানতে ক্যন্টিনে নিয়ে গেল। ক্যন্টিন ফাকাই ছিল তবুও নীলা আমাকে কোণার একটা সিটের দিকে নিয়ে গেল। বসতে বসতে বললো "তুমি যে আমাকে পছন্দ করো আমি জানি"। আমি হা করে নীলার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নীলা ঠোটে হাসি টেনে বললো "যে দিন আমি তোমাকে প্রথম দেখি, সেদিনও দেখেছি তুমি আমার দিকে এমন হা করে তাকিয়ে আছো"। আমি ঠোট বন্ধ করলাম। নীলা আমার কানের আছে মুখ এনে বললো " কাজটা ঠীক করোনি একজন ডাইনিকে ভালোবাসা তোমার উচিত হয়নি। জানোতো, আমি একটা ডাইনী আর ডাইনীর সাথে যারা সঙ্গম করে তারা প্রত্যকেই মারা যায় । সজীব, নীলয়, রাতুল এরাও মারা যাবে অথোচো বোকারা এখোনো জানেই না"। আমি কিছু বলতে পারছিলাম না, অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম নীলার দিকে। এই মেয়েটা কি সব বলছে! নীলা নিজে থেকেই আবার বলতে শুরু করলো " শুনবে আমার ডাইনী হয়ে ওঠার গল্প?"। আমি মনেপ্রাণে চিৎকার করে বলেছিলাম না, শুনবো না কিন্তু মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের করতে পারিনি। নীলা বলে চলেছে " সে দিন ছিল আমার বান্ধবীর এর ভাইয়ের বিয়ে। ঐ বাড়িতে আমার আগে থেকেই যাতায়েত ছিল তাই বাড়ীর সবাই আমাকে চিনতো। হটাত আমার ফ্রেশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ায় নীচ তালায় ভীর বলে আমি দোতালায় গেছিলাম। দোতালা ফাকাই ছিল। আমি বাথরুমে ঢোকার পড়েয় কারেন্ট যায়। জেনারেটর চালু করতে দেরী হচ্ছিলো বলে আমি বের হতে যাবো ঠীক তখনি একটা রাক্ষশ এসে আমার মুখ চেপে ধরে, ঠেলে নিয়ে যায় ভেতরে"। নীলা কাঁদছে, হাঊমাউ করে কাঁদছে। সান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা নেই। আমি আমার হাত নীলার হাতের উপর রাখলাম। নীলা নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলো " ঘৃণায়-লজ্জায় সেই কথা আমি কাউকে বলতে পারিনি শুধু মা কে বলেছিলাম মাও চেপে যেতে বললেন। তখনো জানতাম না যে ঐ রাক্ষশটাই আমাকে অভিশপ্ত করেছে। রাতুল কে আমি ভালবাসতাম কিন্তু রাতুল আমাকে নিয়ে শুধুই খেলেছে। ওর আর আমার কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে দিনের পর দিন আমাকে ব্লাকমেল করেছে। প্রথম যেদিন আমি ভিডিওটা দেখেছিলাম এতটাই শকড হয়েছিলাম যে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। ক্লিনিকে যেতে হয়েছিলো আর সেখানেই জেনেছি আমি এইচ আই ভি পজেটিভ। রাতুল আমাকে নীলয়ের শুতে বলেছিলো। আমার কি হয়েছিলো আমি জানি না রাগ, ক্ষোভ আর প্রতিশোধের নেশায় অন্ধ হয়ে আমি আমার এইডস এর কথা চেপে গেলাম। তারপর রাতুল যার যার সাথে বলেছে সবার সাথেই আমি রাত কাটিয়েছি। ওরা সবাই এখন আমার ভাইরাস বয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিটা ডাইনিই চায় তার অস্তিত্ব টিকে থাক"। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না আবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম নীলার দিকে। ওর চোখ গুলো কি গভীর! নীলা বলছিলো " এসব কথা আমি কাউকে বলিনি শুধু তোমাকেই বললাম।" আমি নীলার দিক থেকে মুখটা অন্য দিকে ফিরিয়ে বলেছিলাম" আমাকেই কেনো বললে?"। নীলা বললো "আমি খুব বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েছি, বাবা আমাকে বাহিরে পাঠীয়ে দিচ্ছেন তিনি চান না তার মেয়ের কলঙ্কের কথা সবাই জেনে যাক আর কখনোই তোমার সাথে দেখা হবে না।" আচমকা আমার হাটতা চেপে ধরে বললো " সবার মত তুমিও নিশ্চয় আমাকে নষ্ট মেয়ে ভাবো কিন্তু বিশ্বাস করো আমি নষ্ট মেয়ে না, আর যে যাই ভাবুক তুমি আমাকে নষ্ট ভেবো না, প্লিজ।" বলেই নীলা কাদতে কাদতে চলে গেলো। আমার চোখের কোণে তীরতীরে ব্যাথা , ঝাপসা চোখে আমি নীলার চলে যাবার দিকে তাকিয়ে আছি।
সেদিনের পর থেকে নীলাকে আর কখনো দেখিনি। রাতুল মারা গেছে। সজীব, নীলয়ও অসুস্থ। আমার পাশের কেবিনেই ওরা আছে। আমিও ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। সেই দিনের সেই বিয়ের অনুষ্ঠান ছিলো আমার কাজিনের। সেখানেই নীলা কে দেখে আমি রাক্ষশ হয়ে উঠেছিলাম। সে কথা কেঊ জানে না, সবাই ভেবেছে আমিই ছিলাম নীলার শেষ শিকার কারণ আমার সাথেয় শেষ বার নীলাকে দেখা গেছে।

(কষ্টের প্রেমের গল্প)

বাংলা গল্প